ব্রেকিং নিউজ

আমার ভাইদের উপর হামলার বিচার চাই!

  |  ১৭:৫৫, আগস্ট ০৭, ২০১৯

নাঈম চৌধুরীঃ স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের চাপাতির কোপে ডান হাত হারিয়েছে আমার ভাই। হাড় ভেঙেছে বাঁ হাতের তিন স্থানে। কেটে দেওয়া হয়েছে ডান পায়ের রগও। সিলেটে জামায়াত-শিবির ক্যাডারদের নৃশংস হামলায় সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে ২০ বছর বয়সী ছাত্রলীগ কর্মী আমার ভাই শাহিন আহমদ। একই ঘটনায় আরেক ছাত্রলীগ কর্মী আমার আরেক ভাই আবুল কালাম আসিফের (২০) ডান হাত ও বাঁ পায়ের রগ কেটে দেয় স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সন্ত্রাসীরা। শুধু হাত-পা নয়, দু’জনের শরীরজুড়েই অসংখ্য কোপের চিহ্ন। শাহিন ও আসিফের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাদের পরিবার। সবার মনেই একই প্রশ্ন, কী দোষ ছিল দু’জনের যে তাদের বর্বর হামলার শিকার হতে হলো।

এদিকে হামলার শিকার হওয়ার দুইবছরের কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ায় আক্ষেপ করে আবুল কালাম আসিফ আজ ফেইসবুকে লিখেছেনঃ “আজ সেই অভিশপ্ত ৭ আগষ্ট ! ২০১৭ সালের ৭ আগষ্ট জালালাবাদ কলেজে স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি লাগানোর দাযে শিবির হায়নারা কেটে ফেলে আমার হাত পায়ের রগ , কেটে ফেলে আমার বন্ধু শাহীনের হাত 😶 আজ দুই বছর হয়ে গেলো…….”

২০১৭ সালের ৭ আগস্ট সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটের জালালাবাদ কলেজের সামনে মহানগর ছাত্রলীগের কর্মী শাহিন ও আসিফের ওপর দিনদুপুরে হামলা চালায় জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। রামদা-চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় দু’জনকে। জালালাবাদ কলেজে স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি লাগানোর দায়ে বর্বর হামলার শিকার হোন শাহীন ও আসিফ।

শাহিন সিলেটের জালালাবাদ উপজেলার পীরপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে। আসিফ নগরীর উপশহরের জালাল উদ্দিনের ছেলে; তার বাড়ি বিয়ানীবাজারের দোয়াখাঁ গ্রামে। শাহিন সিলেটের মদনমোহন কলেজের অনার্স ও আসিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিবিএর ছাত্র।

এ ঘটনার পরপরই জামায়াত-শিবিরের সাত নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আসিফের বড় ভাই আবুল কালাম আফাজ। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলো- স্থানীয় শিবির ক্যাডার আবদুল ফাত্তাহ, আকিব, সাকিব, তাহমিদ, জাবেদ এবং জালালাবাদ কলেজের শিক্ষক আক্কাছ আলী ও এবাদুর রহমান। হামলার দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও আজো এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানতে চাইলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা বলেন, এজাহারভুক্ত আসামিরা ঘটনার পরপরই পালিয়েছে। তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো। অপরাপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে অল্প বয়সেই পঙ্গু হয়ে যাওয়ায় ছেলের বাকি জীবন কীভাবে চলবে, কার ওপর নির্ভর করবে সে- এমন নানা প্রশ্ন আর দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন শাহিনের দরিদ্র বাবা নুরুল আমিন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছেলের চিকিৎসা খরচ জোগাতে হিমশিম খেয়েছেন তিনি। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের কী এমন ক্ষতি করেছিল তার ছেলে যে ওর পায়ের রগ কেটে দিতে হবে, শরীর থেকে হাত কেটে আলাদা করে ফেলতে হবে?

সাংবাদিকদের কাছে নৃশংস হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিউরে উঠছিলেন আসিফ। বলেন, ‘আমরা দুই বন্ধু (আসিফ ও শাহিন) ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে জালালাবাদ কলেজের সামনে বসেছিলাম। হঠাৎ আট-নয়টি মোটরসাইকেলে ১১-১২ জন এসে আমাদের পাশে থামে। তাদের মধ্যে সাতজনকেই আমি চিনি। তারা জামায়াত-শিবিরের সক্রিয় নেতা-কর্মী। তাদের হাতে ছিল রামদা আর চাপাতি। মোটরসাইকেল থেকে নেমে আমাদের ঘিরে ধরে বলে- ছাত্রলীগ করিস, জালালাবাদ কলেজে ছাত্রলীগের অস্তিত্ব থাকবে না। কলেজে কারও ছবিও টানানো হবে না। তোদের সাহস কে দিয়েছে কলেজে ছবি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি) টানানোর?’

আসিফ জানান, এরপরই শিবির ক্যাডার আবদুল ফাত্তাহ, আকিব, সাকিব ও তাহমিদ তাকে কোপাতে থাকে। এরপর অপর শিবিরকর্মীরা তাদের দু’জনকে এলোপাতাড়ি কোপায়। তিনি জানান, জালালাবাদ কলেজটি জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত। সেখানকার শিক্ষকরাও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত ১ আগস্ট আসিফ, শাহিনসহ স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কলেজের অফিসকক্ষে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানিয়ে দিয়ে আসেন। তারা কলেজটিতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা। আর এ কারণেই আসিফ ও শাহিনের ওপর হামলা হয়।

আসিফ ও শাহিনের স্বজনরা জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা লোকজন ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। শাহিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই দিনই তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পঙ্গু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তার ডান হাত কনুই থেকে বিচ্ছিম্ন করেন চিকিৎসকরা। কারণ, হামলাকারীদের কোপে হাড় কেটে হাতের চামড়ায় আটকে ছিল। তার ডান পা ও বাঁ হাতের অবস্থাও ভালো নয়।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার দুই বছর পার হলেও এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিকাশে জামায়াত-শিবিরের উপস্থিতি খুবই ক্ষতিকারক। এরা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। এরা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ বিস্তার করে যাচ্ছে। আর এই জামায়াত শিবিরের বর্বর হামলায় মারাত্নকভাবে আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে যাওয়া আমার ভাই শাহীন আর আসিফের মনে কাঙ্ক্ষিত বিচার না পাওয়ার যে আক্ষেপ তা আগুন হয়ে আমাদের মনেও জ্বলছে ধিকধিক করে। রাস্ট্রের কাছে আমার প্রশ্ন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দেশের রাস্ট্রক্ষমতায় থাকা সত্বেও আমাদের দুটি ভাই কেন আজ বর্বর হামলার শিকার হয়েও মানবেতর দিন যাপন করছে? জাতির পিতার আদর্শের কর্মীরা যদি বিচারহীনতায় দিন কাটায় তবে ভবিষ্যতে জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগে কর্মী সংকট হবে না এই মর্মে কেউ কি আশ্বস্ত করতে পারবেন?

পরিশেষে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবী জানাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি আমার ভাইদের উপর হামলার বিচার চাই!

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ