ব্রেকিং নিউজ

তীব্র ভাঙন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনায় বিলীন শতাধিক বাড়িঘর

  |  ০৬:৩৫, জুলাই ২২, ২০১৯

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ একদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, অন্যদিকে নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের ২টি গ্রামের প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে জামালপুরের মেলান্দহের বন্যাকবলিত দুরমুঠ ইউনিয়নের চরহাতিজা গ্রামের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদীতে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে ভুক্তভোগীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নরসিংদীতে মেঘনা নদীতে ব্যাপকভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রায়পুরায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম দুটি হচ্ছে চরমধুয়া ও দড়িহাটি। ঝুঁকিতে রয়েছে এ দুটি গ্রামের আরো পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। নদী ভাঙনের ফলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শত শত মানুষ। তারা বর্তমানে ভেড়িবাঁধ ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এক দশকেও ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণের কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা এখনো পর্যন্ত কোনো ত্রাণসামগ্রী পাননি বা তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সিকদার জানান, নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। বাঁধ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধনও করেছি। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বাঁধ নির্মাণের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

জামালপুরে নদী ভাঙনের ফলে মেলান্দহের চরহাতিজা গ্রামের দুই শতাধিক মানুষ চরম দুরাবস্থায় দিন কটাচ্ছেন। খাদ্য-পানীয় এবং আবাসন সংকটে নারী ও শিশুদের নিয়ে তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। খাদ্যের অভাবে শিশু-গবাদিপশুরাও কাতরাচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নদী ভাঙনের সময় কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। বসতবাড়ি ছাড়াও ফলের বাগান, ফসলি জমি, গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙনের সময় একজন পানির সে াতে ভেসে যায়। পরে তার লাশ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকাটি রক্ষার জন্য টানা আট বছর যাবত্ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আশ্বাস পেলেও কোনো কাজ হয়নি। আগে থেকে ব্যবস্থা নিলে রক্ষা করা যেত গ্রামটি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ