ব্রেকিং নিউজ

অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার!

  |  ১৭:০৯, জুলাই ১১, ২০১৯

ডেইলি সিলেট মিডিয়া: যৌক্তিক কোন কারণ ছাড়াই হঠাৎ দুই-তিন দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা বেড়ে গেছে। যেখানে গত শুক্রবারও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, সেখানে সোম-মঙ্গলবার তা বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।

অন্যদিকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ থেকে বেড়ে হয়ে গেছে ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা। বাজারে হঠাৎ এভাবে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা দুই-তিন দিনের টানা বৃষ্টিকে দায়ী করলেও এর পেছনে ঈদুল আজহা সামনে রেখে দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারসাজি রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

কারণ এরই মধ্যে রসুন, আদা ও অন্যান্য জরুরি মসলাপাতির দামও বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আগাম ব্যবস্থা নেয়া দরকার, যাতে করে কোরবানির ঈদের আগে বাজারের পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়।

বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে- ঈদ ও যে কোনো বড় উৎসব সামনে রেখে আগে থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। এমনটি করার পেছনের কারণ হল, সরকার উৎসবকেন্দ্রিক মনিটরিং শুরু করলে পণ্যের দাম কিছুটা কমিয়েও যাতে অযৌক্তিক দাম বহাল রাখা যায়।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে যেখানে উৎসব-পার্বণ সামনে রেখে পণ্যমূল্য কমানো হয়, সেখানে আমাদের দেশে এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন, সর্বোপরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়টি জোরদার ও সার্বক্ষণিক করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি কঠোরভাবে দমন করা।

কেবল পেঁয়াজ ও মসলাপাতিই নয়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই উর্ধ্বমুখী। পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ক্যাবের সভাপতি।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। কোনো পণ্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হবেন।

ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক লাভ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ক্রেতা যেন প্রতারিত না হন, তা সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া পণ্যের ন্যায্য দাম, মান ও মেয়াদ ঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য তদারকির ব্যবস্থা জোরদার করার বিকল্প নেই। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এখন থেকেই পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, সয়াবিন তেলসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো যদি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সারা বছর নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যায়, তবে বাজার ব্যবস্থার যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ