ব্রেকিং নিউজ

চালু হয়েছে শাহবাজপুর সেতুঃ এখনো এপ্রোচ সড়কের কাজ বাকি

  |  ১৯:৩৩, জুলাই ০৭, ২০১৯

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। বাকি আরো অনেক কাজ। এমন অবস্থাতে তাড়াহুড়ো করে শনিবার রাতে খুলে দেয়া হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতু। গতকাল সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এপ্রোচ সড়ক তৈরির কাজ চলছে এখনো। এই কাজে ব্যবহৃত রোলার আর সাধারণ যানবাহন চলছে পাশাপাশি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আল মামুন অনানুষ্ঠানিক ভাবে সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা জানান। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন ১০ই জুলাই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তবে সেতুর কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরো ৬ মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সওজ’র এই কর্মকর্তা।

পুরাতন সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় নির্মাণাধীন নতুন সেতুর কাজ দ্রুত গতিতে করা হয়। অবকাঠামোগত কাজ এগিয়ে আনা হয় এক মাস। সর্বশেষ ৪শ’ মিটারের একটি স্ল্যাব ঢালাইয়ের পর তা কয়েক ঘণ্টাতে যাতে জমাট বাঁধে সেজন্য ব্যবহার করা হয় বিশেষ ধরনের ক্যামিকেল (এ্যাডমিকচার)। এর সঙ্গে বেশি পরিমাণ সিমেন্টও দেয়া হয়। এভাবেই সেতু যানবাহন চলাচল উপযোগী করতে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চালানো হয়। তবে তাড়াহুড়োর এই কাজে কোনো ত্রুটি থাকছে কিনা জানতে চাইলে সওজ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শামীম আল মামুন জানান-কারিগরি দিক বিবেচনায় রেখেই যত দ্রুত সম্ভব কাজ করছেন তারা। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা প্রথমে জানিয়েছিলেন জুলাই মাসের শেষ দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য নতুন সেতু খুলে দেয়া হবে। পরে বলা হয় ৩রা জুলাই সেতু চালু করা হবে। এরপর আবার ১০ই জুলাই সেতু চালুর কথা জানান সওজ কর্মকর্তা শামীম আল মামুন। কিন্তু সেই তারিখ আসার ৪ দিন আগেই সেতু খুলে দেয়া হয়।

গত ১৮ই জুন পুরাতন সেতুর একটি অংশ ভেঙ্গে পড়লে সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এক সপ্তাহ ধরে ভাঙ্গা অংশে নতুন বেইলি স্থাপনের কাজ চলতে থাকার মধ্যে ৬ দিনের মাথায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হলে বেইলি স্থাপনের কাজও রাতারাতি শেষ করতে সক্ষম হয় সওজ। সংস্কার কাজের জন্যে ভারি ও মাঝারি ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয় পুরাতন সেতুর ওপর দিয়ে। তবে পাশাপাশি অপর বেইলিটি হালকা যানবাহন চলাচলের জন্যে খোলা রাখা হয়। কিন্তু উপবন দুর্ঘটনার পর এই বেইলি সেতুটিও একই সঙ্গে ভারি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। নতুন বেইলি স্থাপনের পর শুধু যাত্রী নামিয়ে বাস চলতে দেয়া হবে আর ট্রাক চলবে বিকল্প সড়কপথে; সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা এমনটি জানালেও পরে তারা সেই কথাও ঠিক রাখতে পারেননি। ওভারলোডেড ট্রাক-বাস চলতে শুরু করে সমানে। তবে পুরাতন সেতুতে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা থাকায় ম্যাজিক গতিতে নতুন সেতুর কাজ করতে শুরু করেন তারা। ২৫৪ মিটার দীর্ঘ আর ১৬ মিটার প্রস্থের নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। এর পুরো কাজ শেষ হবে এ বছরের ডিসেম্বরে। নতুন সেতু নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৫৯ কোটি টাকা। 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ