ব্রেকিং নিউজ

কালো তালিকায় মন্ত্রী-এমপিরাঃ ক্লিন ইমেজ নেতার খোঁজে প্রধানমন্ত্রী

  |  ০৮:০১, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ নয়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এমনকি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ এবং এমপিদেরও অপকর্মের তদন্ত করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি নিজস্ব টিম এই কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। সংগঠনের নামে কেউ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করলে বা সন্ত্রাসীকে লালন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউন্সিলের আগে দলের একটি ক্লিন ইমেজ আওয়ামী লীগ সভাপতি তৈরি করতে চান। এই ক্লিন ইমেজের অংশ হিসেবেই তিনি এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুধু ঢাকায় নয়; পর্যায়ক্রমে সারাদেশেই চলবে। মন্ত্রী বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে। যত বড় মাস্তান, যত বড় নেতা, আর যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি রোধ করা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনছি। আরো চেষ্টা করছি।

সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সভায় এ বিষয়ে আলোচনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম মনিটর করছেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদক, এনবিআরসহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আনা হয়।

বিভিন্ন অপরাধ এবং অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ২৭ জন এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরা দলের জন্য ক্ষতিকর। এমপি হয়ে এরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব টিম দিয়ে এই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ফিরে আসার পর এমপিদের বিরুদ্ধেও এই ক্রাশ প্রগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ২৭ জন এমপির মধ্যে ঢাকার এমপি অন্তত তিনজন। এদের একজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শ্মশানঘাটের জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। আরেক এমপির বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের লালন-পালনের অভিযোগ। মতিঝিল এলাকায় যেমন যুবলীগের ক্যাসিনোর বিষয়ে রাশেদ খান মেননের সম্মতি ছিল, ঠিক তেমনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এমপিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপি যার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের প্রকাশ্য দ্ব›দ্ব দেখা দেয়, তাকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর, রাজশাহী-রংপুরসহ অন্তত ১৭টি জেলার ২৭ এমপির বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে এ সরকারের আমলেই দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধেও দুদক দুর্নীতির মামলা করে। কক্সবাজারের বহুল আলোচিত সরকারদলীয় সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি দুদকের মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। এরপর তিনি দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হন। শেরপুরের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং নরসিংদীর সাবেক এমপি কামরুল আশরাফ খানের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করেছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছে। এছাড়া নতুন করে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, আসলামুল হক এমপি, ভোলার নুরুন্নবী শাওন এমপি, রাজশাহীর এনামুল হক এমপি, রাজশাহীর সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি আমানুর রহমান আমান, নাটোরের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ এবং শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ আরো অনেকেই এ তালিকায় রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এসব অভিযোগের ব্যাপারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি একাধিক শীর্ষ নেতাকে বলেছেন, শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ নয়; যারাই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এটাও বলেছেন, দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো। এমপিদের বিরুদ্ধে নানারকম অবৈধ তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সতর্ক করে দিয়েছেন। শেষ সতর্কবার্তা যদি তারা গ্রহণ না করেন, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংগঠনের নামে কেউ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করলে বা সন্ত্রাসীকে লালন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউন্সিলের আগে দলের একটি ক্লিন ইমেজ আওয়ামী লীগ সভাপতি তৈরি করতে চান। এই ক্লিন ইমেজের অংশ হিসেবেই তিনি এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে দলের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ