ব্রেকিং নিউজ

দুদক নামছে অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে

  |  ০৭:৫৯, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ডেইলি সিলেট মিডিয়াঃ ক্যাসিনোতে মশগুল থাকা রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের অবৈধ অর্থের উৎসে হানা দিতে মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করবে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে কমিশনে আলোচনা হয়েছে বলে দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়।

সূত্রমতে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলস্থ ‘ইয়ংমেন্স ক্লাব’র অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)। এর পরপরই সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরে অবস্থিত নিজ বাসা থেকে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুইয়াকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ পিস্তল, গুলি, ৫৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে তার মালিকানাধীন ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব থেকে নারী-পুরুষসহ ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। নগদ ২০ লাখ টাকার বেশি উদ্ধার করা হয়। কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আকস্মিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জ যুবলীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শামীমকে। র‌্যাব থেকে জানানো হয়, ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় নিকেতনে নিজ ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে গ্রেফতার করা হয় শামীমকে। অভিযানকালে শামীমের কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত)র ডকুমেন্ট উদ্ধার হয়। এ ছাড়া মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। সেই সঙ্গে শামীমের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাজধানীর স্পোর্টস ক্লাবগুলোতে খেলাধুলার পরিবর্তে অবৈধ ক্যাসিনো চলছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত কয়েক দিনে রাজধানীর ক্লাবগুলোতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় গ্রেফতার করা হয় সরকারদলীয় কয়েকজন রাজনীতিককে। গ্রেফতারের পরপরই অর্থ-বিত্ত নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ক্যাসিনো জুয়া থেকে প্রাপ্ত অর্থ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি লব্ধ অর্থ এবং সেই অর্থে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ করেন তারা। অবৈধ উপায়ে অর্জিত অপরাধ লব্ধ অর্থ থেকে কে কে ভাগ পায় সেই তথ্যও প্রকাশ পায়। কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম তৈরির তথ্যও প্রকাশ পায় সংবাদ মাধ্যমে। দুদক এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে দুদকের টিম গঠন এবং অনুসন্ধান শুরু সম্পর্কে সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত টেলিফোনে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান।

প্রসঙ্গত: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছ থেকে চাঁদা নেয়ার দায়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। দায়িত্বে থাকাকালে তাদের চাঁদাবাজি এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ-সম্পদের তথ্য বেরিয়ে আসে। পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৯ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের নবনিযুক্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে বলেন, ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। জানি কঠিন কাজ কিন্তু আমি করব। এ বক্তব্যের পরপরই র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযানে নামে। সক্রিয় হয়ে ওঠে অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও। দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের অভিযোগ অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনের। এ কারণে অবৈধ ক্যাসিনো থেকে লব্ধ অর্থ, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ, নামে-বেনামে করা সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার দুদকের। আইনগত বাধ্য-বাধকতার কারণেই অভিযানে নামছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ